মাহমুদ হাসান রনি
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ডুগডুগি গরুর হাট এলাকায় গবাদিপশুর জন্য গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী এক ‘আবাসিক হোটেল’। মানুষের নয়, এবার গরু ও ছাগলের জন্য তৈরি এই অভিনব হোটেলটি ইতোমধ্যেই স্থানীয় ব্যবসায়ী ও খামারিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ডুগডুগি গরুর হাট সংলগ্ন একটি আমবাগানের ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছে ‘আরিফ গবাদিপশু হোটেল কাম ওয়্যারহাউস’। উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে গরু ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। হাটে আসা ব্যবসায়ীদের গবাদিপশু রাখার নিরাপদ জায়গার সংকট দূর করতেই তিনি এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন।
ভাড়া, সুবিধা ও ব্যবস্থাপনা
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, এখানে ৩০০ কেজির নিচে ওজনের গরুর জন্য ২৪ ঘণ্টার ভাড়া ৫০০ টাকা এবং ৩০০ কেজির বেশি গরুর জন্য ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাইলে ছাগল রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে।
প্রতিটি পশুর জন্য আলাদা নির্ধারিত স্থান রয়েছে। পুরো এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। গরুর জন্য সার্বক্ষণিক ঘাস, বিচালি ও সাইলেজ রাখা থাকে। দিনে তিন থেকে চারবার খাবার সরবরাহ করা হয় এবং নিয়মিত গোসল ও পরিচর্যার ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রয়োজনে অসুস্থ গবাদিপশুর জন্য স্থানীয় প্রাণী সেবা কর্মী ও চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এ ক্ষেত্রে আলাদা ফি প্রযোজ্য।
ব্যবসায়ীদের স্বস্তি
স্থানীয় পল্লী প্রাণী সেবা কর্মী ওবায়দুল হক রুনু জানান, ডুগডুগি হাট অঞ্চলের অন্যতম বড় গবাদিপশুর বাজার। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা নিরাপদ স্থানের অভাবে সমস্যায় পড়তেন। এখন এই হোটেলের মাধ্যমে তারা নিশ্চিন্তে গরু রেখে কেনাবেচা করতে পারছেন।
গরু ব্যবসায়ীরা বলেন, আগে হাটে গরু নিয়ে এলে রাতযাপন ও নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। অনেক সময় খোলা জায়গা বা রাস্তার পাশে গরু পাহারা দিতে হতো। এখন এই হোটেল চালু হওয়ায় তারা স্বস্তিতে ব্যবসা করতে পারছেন।
উদ্যোক্তার বক্তব্য
উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, অনেক সময় একজন ব্যবসায়ী একাধিক গরু কিনলেও সবগুলো একসাথে রাখার সুযোগ থাকে না। সেই সমস্যার সমাধানেই এই উদ্যোগ। তিনি আরও জানান, এখানে চেক-ইন ও চেক-আউট ব্যবস্থা রয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টাকে একদিন হিসেবে গণনা করা হয়। পুরো সেবা বুফে পদ্ধতিতে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বৃষ্টির সময় বা ভিড়ের মধ্যে ব্যবসায়ীরা গরু নিয়ে বিপাকে পড়তেন। এখন তারা হোটেলে গরু রেখে নিরাপদে কেনাবেচা করতে পারছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে ভবিষ্যতে আরও অবকাঠামো উন্নয়ন, অতিরিক্ত ঘর নির্মাণ এবং পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মত
চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক ডা. আ. হা. ম. শামিমুজ্জামান বলেন, এটি একটি সময়োপযোগী ও অভিনব উদ্যোগ। গরু ব্যবসায়ীদের জন্য এটি অত্যন্ত সহায়ক। এতে পশু নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসাও আরও সহজ হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং হাটের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এই গরুর হোটেলটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।