মাহমুদ হাসান রনি
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
“অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখবো সম্পদ ও জীবন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ। বুধবার (তারিখ উল্লেখিত) সকাল ১০টায় জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সপ্তাহের উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। উদ্বোধনের শুরুতে জাতীয় সংগীতের সুরে জাতীয় পতাকা ও ফায়ার সার্ভিসের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে এক মনোজ্ঞ পরিবেশে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর খালিদ হুসাইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইতিহাস দীর্ঘ ও গৌরবময়। ব্রিটিশ আমলে ১৯৩৯-৪০ সালের দিকে এর কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৫১ সালে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সিভিল ডিফেন্স যুক্ত করা হয় এবং ধীরে ধীরে এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি পূর্ণাঙ্গ অধিদপ্তরে রূপ নেয়।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার সারাদেশে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন করে আরও ২০টি স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি প্রতিটি স্টেশনে ১০০টি করে অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ এবং প্রায় ৩০ হাজার নতুন জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আউলিয়ার রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মিনহাজুল ইসলাম, স্টেশন অফিসার ওহিদুল ইসলাম এবং জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, ফায়ার সার্ভিস শুধুমাত্র অগ্নিনির্বাপণের কাজেই সীমাবদ্ধ নয়। সড়ক দুর্ঘটনা, নৌ দুর্ঘটনা, নদীতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তি উদ্ধারসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাদের দ্রুত ও পেশাদার উদ্ধার কার্যক্রম বহু প্রাণ ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।