বিশেষ প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় প্রেম, বিয়ে ও তালাককে কেন্দ্র করে এক প্রভাষকের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ চার বছরের সম্পর্কের পর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক নারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ব্যবহার, পরে নাটকীয়ভাবে বিয়ে করে মাত্র সাত দিনের মাথায় তালাক দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মাহমুদা সুলতানা রেশমা (৩২), উপজেলার মজিদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অভিযোগ করেন, কেশবপুর উপজেলার আবু শারাফ সাদেক কারিগরি ও বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রভাষক মো. রফিকুল ইসলাম ২০২১ সালের দিকে তার সঙ্গে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়।
রেশমার দাবি, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে খুলনা শহরের একটি ভাড়া বাসায় তাকে রেখে দীর্ঘদিন স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করেন রফিকুল। স্থানীয় সূত্রগুলোও ওই বাসায় তার নিয়মিত যাতায়াতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে রফিকুল বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ অবস্থায় সন্দেহ ও হতাশা বাড়তে থাকলে রেশমা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তার অভিযোগ।
চরম মানসিক চাপে পড়ে ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর রেশমা বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নথিতে তার স্বামীর নাম হিসেবে ‘মো. রফিকুল ইসলাম’ উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—বিয়ের আগেই কি স্বামীর পরিচয়ে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন ওই প্রভাষক?
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ধর্ষণ মামলার আশঙ্কায় চাকরি বাঁচাতে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা কাবিনে রেশমাকে বিয়ে করেন রফিকুল। কিন্তু বিয়ের মাত্র সাত দিনের মাথায়, ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি তাকে তালাক দেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। ভুক্তভোগী ইতোমধ্যে যশোর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। পাশাপাশি কেশবপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি ন্যায়বিচার ও স্ত্রীর মর্যাদা দাবি করেছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেশমা বলেন, “আমি শুধু একটি সংসার চেয়েছিলাম। চার বছর আমাকে ব্যবহার করে শেষে বিয়ের নামে নাটক করে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রভাষক রফিকুল ইসলাম বলেন, পারিবারিকভাবে বিয়ে হলেও পরে তিনি জানতে পারেন রেশমার আগে দুটি বিয়ে ও একটি সন্তান রয়েছে। তাই কাবিনের টাকা পরিশোধ করে তালাক দিয়েছেন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন শুধু ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং একজন শিক্ষকের নৈতিকতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন অভিযোগের পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—তা নিয়েও সচেতন মহলে আলোচনা চলছে।
স্থানীয়দের মতে, ভুক্তভোগী নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা সমাজে ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা আরও দুর্বল করে দেবে।