শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে অটোরিকশা চালক মুমিনুল মিয়াকে মারধরের পর মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
নিহত মুমিনুল মিয়া উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অটোরিকশা ও সিএনজি চালকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ১০ টাকা করে চাঁদা আদায় করতেন শাহিন মিয়া নামের এক যুবক। গত রোববার বিকেলে মুমিনুল মিয়া তার অটোরিকশা নিয়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গেলে শাহিন মিয়া তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। এসময় মুমিনুল জানান, তিনি আগেই টাকা দিয়েছেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে শাহিন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে মুমিনুল মিয়াকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তিনি মারা যান।
মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ১০টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহ এলাকায় আনা হলে স্বজন ও এলাকাবাসী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দড়িকান্দি এলাকায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স রেখে সড়ক অবরোধ করেন। এসময় তারা হত্যাকারীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের ফলে মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
নিহতের স্ত্রী রিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী খুব সহজ-সরল মানুষ ছিল। মাত্র ১০ টাকার জন্য তাকে মারধর করা হয়েছে। মাথায় আঘাত পেয়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে, পরে হাসপাতালে মারা যায়। এখন আমার দুই সন্তানকে নিয়ে কীভাবে সংসার চালাবো বুঝতে পারছি না।” তিনি এ ঘট