ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজারে হঠাৎ করেই বেড়েছে ভাঙা ডিমের চাহিদা। ফার্মের মুরগির ডিমসহ সব ধরনের ডিমের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষ এখন কম দামে ভাঙা ডিম কিনে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। আর এ সুযোগে ভাঙা ডিমের দামও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলার অন্যতম বৃহৎ বাজার ধানগড়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, ডিমের দোকানগুলোতে ভালো ডিমের পাশাপাশি ভাঙা ডিমের খোঁজ করছেন অনেক ক্রেতা। আগে যেসব ভাঙা ডিম বিক্রেতারা বাড়িতে নিয়ে যেতেন বা খুব কম দামে বিক্রি করতেন, এখন সেগুলোর জন্যও তৈরি হয়েছে আলাদা বাজার।
ধানগড়া বাজারের পুরোনো চৌরাস্তার সেন্টার পয়েন্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ডিম বিক্রি করেন মো. রঞ্জু সরকার। তিনি জানান, কিছুদিন আগেও ফার্মের মুরগির ডিমের হালি ছিল ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা। বর্তমানে সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। দাম বাড়ার কারণে আগের তুলনায় বিক্রি অনেক কমে গেছে।
তিনি বলেন,
“আগে প্রতিদিন তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার ডিম বিক্রি করতাম। এখন তা কমে প্রায় দুই হাজারে নেমেছে। তবে কয়েক দিন ধরে মানুষ ভাঙা ডিমের খোঁজ বেশি করছে। আগে ভাঙা ডিম ৫-৬ টাকায় বিক্রি করতাম, এখন ৮ টাকায় বিক্রি করছি।”
ডিম কিনতে আসা এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ভালো ডিমের দাম অনেক বেশি হয়ে গেছে। তাই কিছুটা সাশ্রয়ের জন্য ভাঙা ডিম কিনছি।”
এক নারী ক্রেতা বলেন, “আমার মেয়ের ডিম খুব পছন্দ। কিন্তু ভালো ডিম কিনতে গেলে সংসারে চাপ পড়ে। তাই বাধ্য হয়ে ভাঙা ডিম কিনছি।”
বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিবহনের সময় কিছু ডিম ভেঙে যায়। আগে এসব ডিমের তেমন চাহিদা ছিল না। কিন্তু বর্তমানে ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ ভাঙা ডিম কিনতেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
এক দিনমজুর বলেন, “আগে কখনো ভাঙা ডিম কিনতে হয়নি। এখন যে দামে ভালো ডিম কিনতাম, সেই দামে ভাঙা ডিম কিনতে হচ্ছে।”
ডিম ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
“হঠাৎ কেন ডিমের দাম বাড়ছে, সেটি আমরাও বুঝতে পারছি না। তবে দাম বাড়ার পর বিক্রি কমে গেছে। এখন অনেকেই এসে ভাঙা ডিমের খোঁজ করছেন।”
বর্তমানে ধানগড়া বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি হালি ৪৮-৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ৬০-৬৫ টাকা এবং সোনালি মুরগির ডিমও ৬০-৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামের কারণে ফার্মের মুরগির ডিমের চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় শিক্ষক সেলিম রেজা খোন্দকার বলেন, “ডিম সাধারণ মানুষের পুষ্টির অন্যতম প্রধান উৎস। কিন্তু বর্তমানে ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এখন সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে পড়ছে। ভাঙা ডিমের মতো পণ্যেও চাহিদা বৃদ্ধি সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।