হৃদয় রায়হান, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিশাল আকৃতির দুটি মহিষ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৪০ মণ ওজনের এই দুই মহিষ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় উৎসুক মানুষ। খামারির আশা, মহিষ দুটি বিক্রি করে প্রায় ১৪ লাখ টাকা পাওয়া যাবে।
উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া বড় জামে মসজিদের সামনে খামারি শাজাহান হোসেনের বাড়িতে মহিষ দুটি লালনপালন করা হচ্ছে। প্রায় ছয় ফুট উঁচু ও আট ফুট লম্বা কালো রঙের মহিষ দুটি বর্তমানে এলাকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
খামারি পরিবার সূত্রে জানা যায়, গরমের কারণে মহিষ দুটিকে বিশেষ যত্নে রাখা হচ্ছে। পাকা টিনশেড ঘরে ২৪ ঘণ্টা বৈদ্যুতিক পাখা চালানো হয়। দিনে দুই থেকে তিনবার গোসল করানো ছাড়াও অতিরিক্ত গরমে বাড়ির সামনের বাঁশবাগানে বেঁধে রাখা হয়। কখনো আবার বড় পুকুর কিংবা খালের পানিতে নামানো হয়, যাতে তারা স্বস্তিতে থাকতে পারে।
খামারি শাজাহান হোসেনের ছেলে বাসার হোসেন জানান, প্রায় তিন মাস আগে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় মহিষ দুটি কেনা হয়। প্রতিটি মহিষকে প্রতিদিন খড়, কাঁচা ঘাস ও প্রায় ১৭ কেজি বিশেষ খাদ্য খাওয়ানো হয়। এতে প্রতিদিন একেকটির পেছনে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আগেও মহিষ পালন করে ভালো লাভ হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বড় আকারের মহিষ কিনেছি। খরচ বেশি হলেও বাজারে বড় মহিষের চাহিদা বেশি থাকায় লাভের সম্ভাবনাও ভালো।”
খামারি শাজাহান হোসেন বলেন, মহিষ দুটির বয়স চার বছরের বেশি। দুই ছেলের সহযোগিতায় তিনি সেগুলো লালনপালন করছেন। প্রতিটি মহিষের উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় আট ফুট। দুইটির মোট ওজন প্রায় ৪০ মণ। তিনি মহিষ দুটি ১৪ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চান।
তিনি বলেন, “যদি ভালো দাম পাই, তাহলে আবার নতুন মহিষ কিনে বড় পরিসরে খামার গড়ে তুলব। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে মহিষ পালনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমারখালী শহর-পান্টি সড়কের পাশে বাঁশবাগানে মহিষ দুটি বাঁধা রয়েছে। খামারি ও তাঁর দুই ছেলে কখনো পানি ঢালছেন, কখনো ফিতা দিয়ে শরীরের মাপ নিচ্ছেন। এ সময় স্থানীয় অনেক মানুষ মহিষ দুটি দেখতে ভিড় করেন এবং ছবি তুলতে ব্যস্ত থাকেন।
খামারি পরিবারের আরেক সদস্য তুষার হোসেন বলেন, “মহিষ দুটি দেখতে বড় হলেও খুব শান্ত স্বভাবের। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে লালনপালন করা হচ্ছে। ন্যায্য দাম পেলে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি।”
এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কুমারখালী উপজেলায় এবার বিক্রির জন্য ১৯টি মহিষ প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার ৩ হাজার ৫৯৭টি খামারে মোট ৩০ হাজার ৫৭৯টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। উপজেলায় পশুর চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “সঠিক পরিচর্যা ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে পারলে মহিষ পালন অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে। গরু ও ছাগলের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে মহিষ পালনে খামারিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।”