নুরুল কবির সাতকানিয়া চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত পৌরসভা ও মৌলভীর দোকান এলাকায় এক ঝটিকা অভিযানে মাটি কাটার ৩টি স্কেভেটর বিকল এবং মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত ৩টি ডাম্পার ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া পৃথক আরেকটি অভিযানে একজনকে নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান-এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় নাপিতের চর এলাকা: এখান থেকে মাটি পরিবহনের সময় ৩টি ডাম্পার ট্রাক জব্দ করা হয় এবং একটি স্কেভেটর বিকল করে দেওয়া হয়।
জাফর আহমদ চৌধুরী কলেজ সংলগ্ন এলাকায় আবাদি জমির মাটি কাটার অপরাধে আরও ২টি স্কেভেটর অকেজো করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অসাধু চক্রের সদস্যরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, উপজেলার উত্তর ছদাহা এলাকায় অকৃষি জমির মাটি কাটার অনুমতি নিয়ে কৃষি জমি নষ্ট করার দায়ে মো. সোহেল নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী এ দণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযান শেষে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন,পরিবেশ ও আবাদি জমি রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। অসাধু চক্র রাতের আঁধারে বা ভোরবেলা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু জনস্বার্থে আমাদের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। পাহাড় বা ফসলি জমির মাটি কাটলেই নিয়মিত মামলাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ভোররাতে মাটি কেটে পরিবেশ ও গ্রামীণ রাস্তাঘাটের ক্ষতি করছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে আসছিলেন। প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপকে তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন