মোঃ হাচান আল মামুন দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে গণিত বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়।
উপজেলার মোট ১৩৩টি সরকারি, বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৭০৯ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা থাকলেও প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নেয় ৫২৬ জন। অনুপস্থিতির হার তুলনামূলক কম থাকায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ কক্ষে প্রবেশ করে। কেন্দ্রজুড়ে ছিল শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থা।
দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপ চন্দ্র দাস বলেন, “দীর্ঘ প্রায় চার মাস পর এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। তারা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। আশা করছি, এ বছরের ফলাফল সন্তোষজনক হবে।”
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কনিকা খীশা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় তদারকি জোরদার করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।”
তিনি আরও জানান, পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক, প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছেন, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
এদিকে, পরীক্ষা উপলক্ষে অভিভাবকদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্বেগের মিশ্র অনুভূতি। অনেক অভিভাবকই সন্তানদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের আশায় পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনের পরীক্ষা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ পায়, যা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।