মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি -কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রতিপক্ষের হামলায় বসতঘর হারিয়ে হতদরিদ্র একটি পরিবার দুই সপ্তাহ ধরে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা করে আসামি পক্ষের অব্যাহত হুমকি-ধমকিতে পরিবারের সদস্যরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এসব বিষয়ে পুলিশের সহযোগিতার পরিবর্তে উল্টো প্রভাবশালী ওই প্রতিপক্ষের দায়ের করা মামলায় নানান ধরনের হয়রানি করা হচ্ছেন তারা। বুধবার রাতে কমলনগর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমনই অভিযোগ করেছেন উপজেলার চরফলকন জাজিরা এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলামের পরিবার। এসময় নজরুল ইসলাম ছাড়াও তার স্ত্রী রফিকেন নেছা, মেয়ে বিবি ফাতেমা, শাশুড়ি মেরাজুল বেগম, জামাতা রবিউল আলম ও ভাগিনা জহির উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নজরুলের পরিবারের সদস্যরা জানান, ওয়ারিশি চার শতক জমি নিয়ে প্রতিবেশী আবুল কাশেমের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার সালিশি বৈঠক হয়। সর্বশেষ গেল বছরের ২৫ এপ্রিল স্থানীয় গণ্যমান্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সালিশি বৈঠকে উভয় পক্ষের জমি পরিমাপ শেষে দুই শতক জমি নজরুলের পক্ষের ওয়ারিশদের বলে রায় দেওয়া হয়। রায় অনুযায়ী উভয় পক্ষ ও সালিশদারগণ স্ট্যাম্পে লিখিত সালিশনামায় স্বাক্ষরও করেন।
নজরুল ইসলাম জানান, বসতঘর সংলগ্ন ওই জমিতে ২ এপ্রিল সকালে তারা ঘর সম্প্রসারণ করে একটি বারান্দা নির্মাণ করেন। এসময় আবুল কাশেম বাঁধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে কাশেমের লোকজন হামলা চালিয়ে তাকে এবং তার স্ত্রী রফিকুন নেছা, মেয়ে আছমা বেগম, সাজিয়ে বেগম নীপা ও মাশকুরা বেগমকে পিটিয়ে জখমসহ শ্লীলতাহানি করেন। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে, রাত ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে কাশেম ভারাটে লোকজন নিয়ে আবারও নজরুলের বসতঘরে হামলা করে। হামলাকারীরা পুরো বসতঘরটি ভেঙে অনেকটাই নিশ্চিহ্ন করে ঘরে থাকা নগদ ছয় লাখ ২০ হাজার টাকা ও আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যান।
নজরুলের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার পর তারা কমলনগর থানা পুলিশের কাছে গেলেও পুলিশ তাদেরকে কোনো সহযোগিতা করেননি। উল্টো কাশেমের দায়ের করা একটি মামলায় নজরুলকে গ্রেপ্তার করেন এবং অন্যদেরও গ্রেপ্তারের ভয় দেখান। পরদিন তারা আদালতে মামলা দায়ের করবেন এমন কথা বলা হলে পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করেন। কিন্তু কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেননি। গেল ৬ এপ্রিল মামলার ১৬ আসামি আদালতে হাজির হলে বিচারক কাশেমসহ দুইজনের জানিম নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। তিনদিন পর তারাও জামিনে কারামুক্ত হন।
এদিকে, আসামিরা জামিনে এসে নজরুলসহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা-গুমসহ নানান ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এতে করে তারা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন।
নজরুল ইসলাম জানান, কাশেমের লোকজন হামলা চালিয়ে তার (নজরুলের) বসতঘর নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার পর অন্য কোনো উপায় না থাকায় এবং বেদখল হওয়ার ভয়ে পরিবারের সদস্যরা ওই ভিটিতে দুই সপ্তাহ ধরে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। এরই মধ্যে কাশেমের লোকজনের অব্যাহত হুমকি-ধমকিতে তারা খুব আতঙ্কে রয়েছেন। জামিনে বের হয়ে এসব বিষয় নিয়ে তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে গিয়েও কোনো সহযোগিতা পাননি। এসময় তিনি ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তসহ অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানান এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করতে ওই জমিতে বসতঘর নির্মাণে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা শুধু আমার ঘরই ভাঙেনি। তারা ঘরে থাকা আমার এক লাখ ২৯ হাজার (এনজিও কাছ থেকে ঋণ নেওয়া) এবং মেয়ে ও জামাতাদের রাখা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে। ওই টাকার চাপে আমি এখন অনেকটাই দিশেহারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আবুল কাশেমের সঙ্গে যোগাযোগের বারবার চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি। তবে তার ছেলে মো. সজীব বলেন, বসতঘরে হামলা-লুটপাট এবং হুমকি-ধমকির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদেরকে ফাসানোর জন্য প্রতিপক্ষ এসব নাটক করছেন।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম বলেন, এ ঘটনায় বিবদমান দুই পক্ষই থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। নজরুল ইসলামের পক্ষকে অসহযোগিতার অভিযোগটি সত্য নয়।