মোঃ এরশাদ আলী, লংগদু প্রতিনিধি :
পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বৈসাবি(বৈস্য- সাংগ্রাই-বিজু)।পাহাড়ের চাকমা সম্প্রদায়ের বিজু উপলক্ষে লংগদুতে হ্রদের পানিতে ফুল ভাসিয়ে উৎসবের সূচনা করা হয়েছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে লংগদু উপজেলা মানিকজোড় ছড়ায় হ্রদের পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে পুরোনো বছরের সকল প্রকার দুঃখ দুর্দশা, হতাশা ও বেদনার গ্লানি ভূলে সকল অশুভ শক্তিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে সাদরে বরণ করে নেন স্থানীয়রা।
লংগদু মানিকজোড় ছড়া একতা সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত ফুল গঝানা অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির সভাপতি প্রতুল বিকাশ চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ মিনহাজ মুরশিদ।
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন লংগদু সদর ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার আরতি তালুকদার, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি সুমন চাকমাসহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিটু চাকমা।
পার্বত্যাঞ্চলের চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসন বৈসাবি যা চাকমা সম্প্রদায়ের কাছে বিজু উৎসব যা বাংলা বছরের শেষ দিনগুলোতে উদযাপিত হয়। এ উৎসবের মাধ্যমে তারা অতীতের সব দুঃখ -কষ্ট ভুলে নতুনভাবে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় স্বাগত জানায় নতুন বছরকে। এর অংশ হিসেবে ফুল বিজুর দিনে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ফুল গঝানা একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান।
সূর্য উদয়র পর থেকেই দলে দলে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ ফুল নিয়ে নদীর তীরে জড়ো হন। বকূল গোলাপ, রক্তজবা, বেলী,গাঁদা, রঙ্গণসহ নানা রঙের ফুল কলাপাতায় সাজিয়ে নদীর জলে ভাসানো হয়। এদিন তরুণ তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে ফুল গঝানায় অংশগ্রহণে পুরো এলাকা রঙিন ও উৎসব মুখর হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের মতে, বিজু শুধু কেবল একটি উৎসব নয়, এটি পাহাড়ের সম্প্রীতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। এ উৎসবের মাধ্যমে তারা সকল ভেদাভেদ ভুলে সবাই একত্রিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
বাংলা নববর্ষ ও বৈসাবি উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ের বুকে আগামী কয়েকদিন চলবে নানা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান, লোকজ আচার-অনুষ্ঠান।