মোঃমাসুদ রানা,
বিশেষ প্রতিনিধি:
আসন্ন নববর্ষের উৎসব ‘বৈসাবি’ নামের পরিবর্তে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব ঐতিহ্যের নামে (বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু ইত্যাদি) উদযাপনের যে সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান গ্রহণ করেছেন, তাকে পূর্ণ সমর্থন ও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহবায়ক।
আজ শুক্রবার সকালে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জোটের আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট নাগরিক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইচিং মং চাক বলেন, "পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। দীর্ঘকাল ধরে 'বৈসাবি' শব্দটি সামষ্টিক পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, এর ফলে অনেক ছোট জাতি সত্তার নিজস্ব উৎসবের নাম ও তাদের অনন্য সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা জনসমক্ষে ম্লান হয়ে যাচ্ছিল। পার্বত্য মন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত পাহাড়ের প্রতিটি জাতির আত্মপরিচয়কে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করবে।"
উৎসবের নিজস্ব নাম কেবল একটি শব্দ নয়, বরং এটি ওই জাতির ইতিহাস ও অস্তিত্বের প্রতীক। প্রতিটি সম্প্রদায়ের উৎসবকে তাদের নিজস্ব নামে ডাকার মাধ্যমে জাতিগত মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। ‘বৈসাবি’ নামের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এখন ম্রো, চাক, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, বম, লুসাই ও খিয়াং সহ সকল অবাঙ্গালি জনগোষ্ঠীর উৎসবের নামগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলাদাভাবে পরিচিতি পাবে, যা পাহাড়ের প্রকৃত সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরবে। একে অপরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তার আসল নামে সম্মান জানানোই হলো প্রকৃত সম্প্রীতি। এই সিদ্ধান্ত পাহাড়ে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও সুদৃঢ় করবে।
ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইচিং মং চাক আরও বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, এই সিদ্ধান্তের ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্যের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। সিএইচটি সম্প্রীতি জোট সবসময়ই পাহাড়ের মানুষের অধিকার ও সাংস্কৃতিক স্বতন্ত্রতা রক্ষার পক্ষে কাজ করে যাবে।"
পরিশেষে, জোটের পক্ষ থেকে পাহাড়ের সকল স্তরের মানুষকে সরকারি এই নির্দেশনা অনুযায়ী নিজ নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি মেনে আনন্দঘন পরিবেশে উৎসব উদযাপনের উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।