ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার পৌর শহরে পলিথিন মোড়ানো একটি ছোট্ট জরাজীর্ণ ঘরে প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন সাইফুল ইসলাম। দারিদ্র্য, অবহেলা ও অসহায়ত্বের নির্মম বাস্তবতায় দিন কাটানো এই পরিবারের দুর্দশার চিত্র ‘দৈনিক কাগজ’ সহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন।
সংবাদটি প্রকাশের পর সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সাইফুল ইসলামের খোঁজখবর নেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন। পাশাপাশি তার পরিবারের সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, তাড়াশ পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ফাজিল মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় মাত্র ৪-৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের একটি পলিথিন দিয়ে মোড়ানো ঝুপরিতে বসবাস করছিলেন সাইফুল ইসলাম। অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক এই পরিবেশে তিনি তার প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে চরম কষ্টে দিন পার করছিলেন। সামান্য বৃষ্টি বা ঝড় হলেই ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ত, আর বাতাসে দুলে উঠত পুরো কাঠামোটি।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন সাইফুল ইসলাম। পরিবারের ভরণপোষণ করতে না পারায় তার স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে একমাত্র প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছিলেন তিনি। অনেক সময় না খেয়েও দিন কাটাতে হয়েছে তাদের।
সম্প্রতি টানা ঝড়-বৃষ্টির কারণে তার বসতঘরটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। যে কোনো সময় সেটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এমন অবস্থায় তার থাকার শেষ আশ্রয়টুকুও হারানোর উপক্রম হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন,“গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে এসে দেখি সত্যিই অত্যন্ত করুণ অবস্থা। প্রশাসনের দায়িত্ব কেবল দাপ্তরিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সাইফুল ইসলামের জন্য একটি নিরাপদ সরকারি ঘরের ব্যবস্থা করব।তিনি আরও জানান, সাইফুল ইসলামের প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া তাকে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এনে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, সংবাদটি প্রকাশিত না হলে হয়তো সাইফুল ইসলামের এই করুণ জীবনযাত্রা সবার অগোচরেই থেকে যেত। তারা গণমাধ্যমের এমন মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানান।মানবেতর জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন সাইফুল ইসলাম। প্রশাসনের সহায়তায় মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার প্রত্যাশায় দিন গুনছেন তিনি।