মোঃ কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি
যশোরের মণিরামপুর শ্যামকুড় ইউনিয়নে এক চাঞ্চল্যকর ও নৈতিকভাবে বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে। সৎ পিতার সঙ্গে পালিয়ে গেছেন অষ্টম শ্রেণির মেয়ে। শুধু পালানোই নয়, দাবি করা হচ্ছে তিনি এখন তার সৎ পিতার বৈধ স্ত্রী। এই ঘটনা সমাজে নৈতিকতা ও শিশু সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এলাকা বাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরিয়ম নামের ওই কিশোরী ১২নং শ্যামকুড় ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার প্রকৃত পিতা আব্দুল্লাহ ও মাতা জেসমিন। চার বছর আগে জেসমিনের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিয়ে হয় শহিদ নামক এক ব্যক্তির। তাদের সংসারে আরও দুই সন্তান রয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে মরিয়ম ও তার সৎ পিতা শহিদ একসাথে নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে জেসমিন মণিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। মণিরামপুর থানা পুলিশ অনেক চেষ্টার পর কিশোরী মরিয়মকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে শহিদ এখনও পলাতক রয়েছেন। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম জানায়, তার সৎ পিতা শহিদ দু’সপ্তাহ আগে তার মা জেসমিনকে তালাক দিয়ে তাকে (মরিয়মকে) বিয়ে করেন। বর্তমানে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করছে বলে সে দাবি করে। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক, পারিবারিক এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি গুরুতর নৈতিক সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিশু অধিকার ও সুরক্ষার প্রশ্নেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন,এ ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, সমাজব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী বলেন,মরিয়মকে তার মায়ের কাছে দিয়ে দিয়েছি এবং মরিয়মের মা বলেছেন এ ঘটনায় তারা কোন মামলা করবেন না তারা মামলা করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করবো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা দেশের শিশুদের নিরাপত্তা ও নৈতিক মূল্যবোধের ওপর গুরুতর আঘাত আনে। এ ঘটনার পর, পরিবারের ভেতরে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ উঠেছে।