মোঃ এরশাদ আলী ,লংগদু প্রতিনিধি :
রাঙ্গামাটি লংগদুতে তিনদিনের নবজাতককে অক্সিজেন সাপোর্ট না দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেয়, লংগদু সরকারি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার রত্ন বিকাশ চাকমার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন নবজাতকের পরিবার।
ভুক্তভোগী নবজাতকের পিতা মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, শনিবার বেলা তিনটায় লংগদু উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি তার তিনদিনের নবজাতক শিশু নিয়ে আসেন ভাসান্যাদম ইউনিয়নের শীলকাটাছড়া এলাকার স্থানীয় দরিদ্র পিতা আরিফুল ইসলাম ।
এসময়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থার অবনতি দেখলে, খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে রেফার করেন। রেফার করার পর এ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়েই চলে গড়িমসি। এম্বুলেন্সের সরকারি নির্ধারিত ভাড়া ১৪শ টাকা হলেও, দুই হাজার টাকার দাবী করে বসেন ড্রাইভার রত্ন বিকাশ চাকমা। গরীব অসহায় বাবা ১৫শ টাকা দিতে রাজি হন। তখন থেকে পথিমধ্যে তাদের নানা ধরণের খারাপ আচরণ। ভাঙ্গা রাস্তা দেখে গাড়ি স্পিট বাড়িয়ে দেয়। যখন ভালো রাস্তায় আসে তখন গাড়ির স্পিট কমে যায়। এসব জানতে চাইলে ড্রাইভার আরো বেশী খারাপ আচরণ করে।
নবজাতকের পিতা-মাতা আরো জানান, যখন খাগড়াছড়ি পৌঁছি তখন একটি প্রাইভেট হাসপাতালের পাশে গাড়ি থামিয়ে সাথে সাথে তিনি বাচ্ছার মুখ থেকে অক্সিজেন খুলে ফেলেন। আমরা কোথায় যাবো, কি করবো ভাবতে না ভাবতে আমার শিশুর অক্সিজেনের অভাবে গাড়িতেই ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে শিশুটি মারা যায়। পরবর্তীতে ড্রাইভার ১৫শ টাকা ভাড়া নিয়ে, আমার সন্তানকে আমার কাছে দিয়ে আমাদেরকে ফেলে গাড়ি নিয়ে চলে আসেন।
পরে আমরা অনেক কষ্টে মৃত সন্তানকে নিয়ে মাহেন্দ্র যোগে লংগদুতে ফিরে আসি।এমতাবস্থায় আমি আমার শিশু সন্তান হত্যার বিচার চাই। আমার সাথে যে অন্যায় করা হয়েছে, তা আর কারো সাথে যেনো না হয়। দ্রুত ড্রাইবারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি।
এব্যাপারে এম্বুলেন্স ড্রাইভার রত্ন বিকাশ চাকমার সাথে যোগাযোগ করা হলে, অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন নবজাতকের মা নিজেই অক্সিজেন খুলে ফেলেন। তবে আমি বকশিস হিসেবে কিছু বাড়তি টাকার দাবি করেছি। এছাড়া খারাপ আচরণ সহ অন্যান্য অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এবিষয়ে লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নিশাত জাহান নওরীন বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাঙ্গামাটিতে ট্রেনিংয়ে আছেন। আমরা ইতিমধ্যে ঘটনাটি শুনেছি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জিন্নাত আলম এর সাথে কথা বলেছি। তিনি রাঙ্গামাটি থেকে আসলে এব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।