ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
প্রখর রোদ ও চৈত্রের দাবদাহে যমুনাপারের জেলা সিরাজগঞ্জে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শনিবার সকাল থেকেই সূর্যের তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকে, আর দুপুরের দিকে তা যেন আগুনঝরা রূপ নেয়। এর সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গরমের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়।
এই অস্বাভাবিক গরমে মানুষের মধ্যে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালকসহ শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। তীব্র তাপদাহে স্বাভাবিকভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য। অল্প সময় কাজ করতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, ফলে দৈনিক আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর প্রভাব স্পষ্ট, বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। তবে এর বিপরীতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতে বসা শরবত ও ঠান্ডা পানীয়ের দোকানগুলোতে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গরমে ক্লান্ত মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে এসব দোকানে ভিড় করছেন।
রিকশাচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রচণ্ড গরমে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে অনেক সময় তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে না থেকে গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। এতে তাদের আয়ও কমে গেছে।
এ বিষয়ে তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, গত দুই দিন ধরে জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে। এতে জনজীবন অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও জানান, গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজ সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৬২ শতাংশ। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সন্ধ্যায় রেকর্ড করা হয়।
অন্যদিকে, শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ি আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী আরও দুই থেকে তিন দিন এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে জনসাধারণকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পানসহ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।