অনলাইন ডেক্স:
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করায় শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৯৪ জন শিশু এবং আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ৭৯২ জন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আগামীকাল রবিবার থেকে এই কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো শিশুই যেন টিকার বাইরে না থাকে তা নিশ্চিত করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা না দিলে শিশুদের হামসহ নিউমোনিয়ার মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। অতীতে সময়মতো টিকা প্রদান ব্যাহত হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সন্তানহারা পরিবারগুলো। তারা দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবহেলা আর না ঘটে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, “টিকা প্রদানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, জন্মের পর থেকেই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) চালু রয়েছে। সময়মতো টিকা না পেলে শিশুদের মারাত্মক জটিলতা এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হয়। তিনি টিকা সংক্রান্ত অনিয়মে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সফি আহমেদ মোয়াজ জানান, শিশুর জন্মের পর বিসিজি টিকা দেওয়ার মাধ্যমে টিকাদান শুরু হয়। এরপর নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী পলিও, নিউমোনিয়া, টিটেনাস, হুপিং কাশি, ডিপথেরিয়া ও হেপাটাইটিসের টিকা দেওয়া হয়। ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে হাম ও রুবেলার টিকা সম্পন্ন করা হয়।
এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢাকাসহ ৮ বিভাগে ৯৪৭ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। নমুনা পরীক্ষায় ৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, সারাদেশে হামের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেই সবাই হামে আক্রান্ত নয়। পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তদের জন্য নির্ধারিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।