নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিলেট-ঢাকা রুটে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় সিলেট রেলস্টেশন থেকে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তেলবাহী ওয়াগন দুর্ঘটনার কারণে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়। এর ফলে ঢাকাগামী ‘উপবন এক্সপ্রেস’ বুধবার রাতে সিলেট স্টেশন থেকে ছেড়ে যেতে পারেনি। একই সঙ্গে শুক্রবারের ‘কালনী এক্সপ্রেস’ ট্রেনও বাতিল করা হয়েছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিলেট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যাত্রীদের সুবিধার্থে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার কারণে আটকে পড়া যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে এই বিশেষ ট্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্পেশাল ট্রেনটি সিলেট থেকে ঢাকার পথে মোট চারটি স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। স্টেশনগুলো হলো—কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল, শায়েস্তাগঞ্জ এবং ঢাকা বিমানবন্দর। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ট্রেনটি কুলাউড়ায় সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে, শ্রীমঙ্গলে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে, শায়েস্তাগঞ্জে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে এবং ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে দুপুর ১টা ৩৩ মিনিটে পৌঁছাবে। পরে চূড়ান্ত গন্তব্য ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে।
এর আগে বুধবার রাতে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেলস্টেশনের কাছে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী একটি তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়। এতে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ প্রায় ২০ ঘণ্টা বন্ধ থাকে। পরে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মেহেদী হাসানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত পাঁচটি ওয়াগনে প্রায় দুই লাখ লিটার ডিজেল ছিল। এর মধ্যে আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ শতাংশ জ্বালানি তেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশেষ ট্রেন চালুর ফলে আটকে পড়া যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে এবং সিলেট-ঢাকা রুটে স্বাভাবিক যাত্রা দ্রুত ফিরবে।