সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পূর্ববিরোধ ও পুরনো হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে লিপ্ত হওয়া এই রণক্ষেত্রে পুলিশের ওসিসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এবং এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুরনো শত্রুতার জের পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের মূলে রয়েছে ২০১৯ সালের একটি হত্যাকাণ্ড। ওই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর বুড্ডা গ্রামের শেখ বংশ ও মৃধা বংশের সংঘর্ষে শেখ শামসুদ্দিন নিহত হন। সেই হত্যা মামলার বাদীপক্ষকে দীর্ঘ দিন ধরে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল আসামিপক্ষ। এমনকি তাঁদের রাস্তাঘাটে চলাচলেও বাধা দেওয়া হতো। পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর থেকে এই উত্তেজনা চূড়ান্ত রূপ নেয়।
টর্চ জ্বালিয়ে রাতের রণক্ষেত্র ঈদের পরদিন আসামিপক্ষের এক যুবক মুড়াহাটি গ্রামে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় বাদীপক্ষের বাধার সম্মুখীন হন। এর প্রতিক্রিয়ায় গতকাল বুধবার রাতে শাহবাজপুর ইউনিয়নের মুড়াহাটি এবং নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বুড্ডা গ্রামের শেখ বংশের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শাহবাজপুর-বুড্ডা সড়কে মুখোমুখি অবস্থানে নামে। মুড়াহাটি গ্রামের পক্ষ নেয় পার্শ্ববর্তী বন্দেরহাটির লোকজন। রাতভর টর্চলাইট জ্বালিয়ে চলা এই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
আহত পুলিশ ও সাধারণ মানুষ সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া, পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম তালুকদারসহ ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহত অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন—এসআই ফারুক আহমেদ, এএসআই ইউনুছ গাজী, সুলতান হোসাইন, আরিফিন জাহান এবং কনস্টেবল আমির হোসেন, মাসুদ রানা, শাহীনুল ইসলাম ও আজিজুল ইসলাম। এ ছাড়া উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন গ্রামবাসী আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আইনি ব্যবস্থা ও গ্রেপ্তার এ ঘটনায় এসআই সুজন চন্দ্র মজুমদার বাদী হয়ে ৬৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে হাসপাতাল ও এলাকা থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মুড়াহাটি গ্রামের রুস্তম মিয়াসহ সাতজন। আজ বৃহস্পতিবার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান: পুরনো একটি খুনের ঘটনার জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আমরা জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছি এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কঠোর অবস্থানে আছে।"
এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।