মোঃ কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি
মনিরামপুরে নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ক্যাম্পের ৭ সদস্যের ‘পার্ট টু’ আবেদন।যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এলাকায় অনলাইন জুয়া (ক্যাসিনো) ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বিস্তার লাভ করেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও অনলাইন জুয়ার এজেন্টদের অবাধে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দিচ্ছেন। এছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কপালিয়া মৎস্য আড়ৎ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা ও মাছ এবং নেহালপুর ঈদ বাজারের নৌকা নাগরদোলা থেকে ৩ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। একইসঙ্গে অনলাইন ক্যাসিনো সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ গ্রহণ এবং প্রভাবশালীদের কাছ থেকে ঈদের উপঢৌকন হিসেবে মাংস নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় মাদক ব্যবসা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, ক্যাম্পের প্রয়োজনের কথা বলে চেয়ার ও এলইডি বাল্ব সংগ্রহ করে তা ব্যক্তিগত বাসায় ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি ‘আকিজ গ্রুপ’ থেকে ক্যাম্পের জন্য দেওয়া ঈদ উপহার সামগ্রীও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা আরও জানান, বিভিন্ন মাছের ঘের থেকে ক্যাম্পের নামে মাছ সংগ্রহ করে তা নিজ বাসায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মুরগি ঘুষ হিসেবে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এদিকে, এসব ঘটনায় ক্যাম্পের অভ্যন্তরে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে ক্যাম্পের ৭ জন সদস্য ‘পার্ট টু’ আবেদন করেছেন। এর মধ্যে হানিফ খান, নাজমুল হাসান ও অরুপ রতনের আবেদন মঞ্জুর হয়ে তাদের বদলির আদেশ হয়েছে। আরও চারজন সদস্য পরবর্তীতে একই আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। উত্থাপিত অভিযোগের একটিও সত্য নয়।