মোঃ শিহাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় একটি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহক ও পাম্প কর্তৃপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে।
অভিযোগ উঠেছে, সিরিয়ালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা গাড়িচালকদের তেল না দিয়ে বোতলে আসা ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি সরবরাহ করছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া ফিলিং স্টেশনটিতে রাতের আঁধারে বেশি দামে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রির একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পাম্প থেকে জ্বালানি কিনে তা স্থানীয় দোকানিরা আবার বেশি দামে বিক্রি করছেন।
সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাম্পটিতে একজন ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের একটি দল নিয়োজিত থাকলেও তাতে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ। প্রশাসনের নজরদারির মধ্যেও অনিয়ম অব্যাহত থাকায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এই সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রশাসন ব্যর্থ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো যোগসাজশ রয়েছে।
অন্যদিকে, টুঙ্গিপাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দোকানিদের বেশি দামে বিক্রি ও জ্বালানি মজুতের দায়ে জরিমানা করা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, এসব দোকানি জ্বালানি কোথা থেকে পাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, ফিলিং স্টেশন থেকেই বেশি দামে জ্বালানি কিনে তা পুনরায় চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, মোটরসাইকেলে তেল নিতে গেলে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ৫০০ টাকার তেল কিনলেও দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪৫০ টাকার সমপরিমাণ।
গণমাধ্যমকর্মীদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রাত ২টার পর প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে পাম্প থেকে দোকানিদের কাছে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি করা হয়। দিনের বেলায় পাম্পের সামনে গাড়ির দীর্ঘ সারি থাকলেও পেছনের দিকে বোতলভর্তি জ্বালানি নেওয়ার জন্য আলাদা লাইন দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ গ্রাহকদের বঞ্চিত করে বোতল ক্রেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে ভাড়াটে লোকজন দিয়ে গ্রাহকদের দমিয়ে রাখা হয় বলেও অভিযোগ।
একটি সূত্র জানায়, সোমবার রাতে প্রায় ৩ হাজার লিটার জ্বালানি আনার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে বিক্রি শুরু হয়। তিন ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ লিটার সরবরাহের পর বাকি জ্বালানি ‘শেষ’ দেখিয়ে অনেক গ্রাহককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেই জ্বালানি কোথায় যাচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গোপন তথ্য অনুযায়ী, পাম্প থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা দরে দোকানিদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে, যা পরে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, ফিলিং স্টেশন ও দোকানিদের এই সিন্ডিকেট ভাঙা না গেলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে না। কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত তদারকি বাড়ালে এ অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নিয়োগকৃত ট্যাগ অফিসার, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুঠোফোনে জানান, তিনি একটি মাসিক সভায় রয়েছেন এবং বিষয়টি পরে খতিয়ে দেখবেন।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।