ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ২ নম্বর বাগবাটি ইউনিয়নে অবস্থিত ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও জনবল সংকটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ২০১৭ সালে আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্মিত এই হাসপাতালটি এখনো প্রত্যাশিত সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে বাগবাটি ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার হাজারো মানুষ নিয়মিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভিড় করছেন। তবে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে অনেক রোগীকেই চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। জরুরি বিভাগ চালু থাকলেও সীমিত জনবল দিয়ে ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, একটি ৩১ শয্যা হাসপাতাল সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অন্তত ১৩ জন চিকিৎসক, প্রায় ২০ জন নার্স, ১৩ জন অফিস সহায়ক কর্মচারী এবং ৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন নার্স ও ৪ জন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো)। এছাড়া একজন ফার্মাসিস্ট থাকলেও তাকে স্টোরকিপারের দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শাহাদত হোসেন জানান, হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত অনেক পদ এখনো অনুমোদন পায়নি। ফলে প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়াই হাসপাতাল পরিচালনা করতে হচ্ছে। মাত্র চারজন স্যাকমো দিয়ে ২৪ ঘণ্টার ডিউটি রোস্টার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও জানান, জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও গত বছরে হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রায় ২৬ হাজার ৬০০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং অন্তর্বিভাগে প্রায় ২ হাজার ৭০০ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন।
এদিকে হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে জরুরি রোগীদের অন্য হাসপাতালে নিতে রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় সাধারণ মানুষ এর সুফল পাচ্ছেন না। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও জনবল নিয়োগ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সচল করার দাবি জানিয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন খন্দকার জানান, বাগবাটি হাসপাতালে প্রশাসনিক অনুমোদন থাকলেও জনবল সৃষ্টি হয়নি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে।
অপরদিকে, সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন বলেন, জনবল সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা বাগবাটি হাসপাতালটি দ্রুত জনবল নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সচল করা না হলে এলাকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে হাসপাতালটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক।