ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দকৃত পেট্রোল গায়েব করার গুঞ্জন ও বিভ্রান্তি দূর করেছেন প্রশাসন। জব্দকৃত তেল বিক্রির সমুদয় অর্থ আজ রবিবার (২৯ মার্চ) ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে তাড়াশ উপজেলার বিনসাড়া বাজারের ‘মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজ’-এ অবৈধভাবে পেট্রোল মজুদ রাখার দায়ে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে আনুমানিক ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয় এবং দোকানের মালিক শাহ আলমকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয় চাহিদা মেটাতে জব্দকৃত তেল উপজেলার খালকুলা নর্থ বেঙ্গল সমবায় ফিলিং স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে প্রতি লিটার ১১৬ টাকা দরে মোটর বাইক চালকদের নিকট সরাসরি বিক্রি করা হয়। এতে মোট ৩৭৬ লিটার পেট্রোল বিক্রি করে সংগৃহীত ৪৩ হাজার ৬১৬ টাকা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গচ্ছিত ছিল। শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় উক্ত টাকা আজ রবিবার সকালে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী জাহিদুল ইসলাম জানান, দুটি ড্রামে করে জব্দকৃত তেল ফিলিং স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং বিক্রির পর খালি ড্রামগুলো মালিককে ফেরত দেওয়া হয়। তেল গায়েব হওয়ার খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, "আমরা সকল বিধি-বিধান মেনেই স্বচ্ছতার সাথে এই অভিযান ও তেল বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। সাপ্তাহিক ছুটি শেষ হওয়া মাত্রই বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই।" তিনি আরও জানান, তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে ও মজুদদারদের বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।