নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেছেন, এ দেশের আপামর জনতা প্রত্যাশা করেছিল এবার ‘দাঁড়িপাল্লা’র গণজোয়ার কেউ রুখতে পারবে না। কিন্তু দেশি-বিদেশি সকল বাতিল শক্তি একত্রিত হয়ে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দাঁড়িয়েপাল্লাকে মেইনস্ট্রিমে আসতে দেওয়া হয়নি। মেইনস্ট্রিমে আসতে না দেওয়ার এই সত্যটি ইতোমধ্যে একজন উপদেষ্টার স্বীকারোক্তিতে জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে।
রোববার (২২ মার্চ) সকাল ১০টায় সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক বিশাল ‘ঈদ পুনর্মিলনী’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিরাজগঞ্জ জেলার বাইরে অবস্থানরত বর্তমান ও সাবেক রুকন, সদস্য, সাথী ও কর্মীদের নিয়ে এই মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, "বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সেক্রেটারি ও মন্ত্রীরা কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দিতেন। তারা বলতেন, সংবিধানের বাইরে এক চুলও নড়বেন না। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, তাদের মতোই বর্তমান সময়ের অনেকে সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে অবজ্ঞা করে কথা বলছেন। জুলাইয়ের চেতনাকে পাশ কাটিয়ে আপনারা অতীতকে ভুলে যেতে চাচ্ছেন, কিন্তু এ দেশের সচেতন জনতা তা কখনোই মেনে নেবে না।"
তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, টালবাহানা বন্ধ করে অতিসত্বর গণপরিষদের শপথ গ্রহণ নিশ্চিত করুন এবং জুলাই সনদকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে জনরোষ থেকে বাঁচার চেষ্টা করুন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো অপশক্তি বা গভীর ষড়যন্ত্র দিয়ে ইসলামের অগ্রযাত্রা ও বিজয় স্তব্ধ করা যাবে না। ইনশাআল্লাহ, যতদিন এই ভূখণ্ডে ইসলামের সুমহান আদর্শ ও ইনসাফ কায়েম না হবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। তিনি বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রেখে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন:
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর ড. শায়েখ আব্দুস সামাদ।কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন।ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদ উদ্দীন।অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও বেলকুচি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আলম, জেলা সহকারী সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম, পৌরসভা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল লতিফ। এছাড়া ইসলামী ছাত্রশিবির সিরাজগঞ্জ শহর শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান ও জেলা সভাপতি আব্দুল আজিজসহ জেলার নয়টি উপজেলার আমিরগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।
পরিশেষে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি এবং ইসলামের বিজয়ের লক্ষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।