দেলোয়ার হোসেন, জামালপুর প্রতিনিধি:
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে গরু চুরির ঘটনা। এক রাতেই দুই কৃষকের গোয়ালঘর থেকে ৮টি গরু চুরির ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
শনিবার ভোরে উপজেলার পৃথক দুটি গ্রামে সংঘটিত এ চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। জানা যায়, উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব সুখনগরী গ্রামের কৃষক মনির হোসেনের গোয়ালঘর থেকে ৫টি গরু এবং পৌর এলাকার বাণিকুঞ্জ গ্রামের কৃষক শাহ আলীর গোয়ালঘর থেকে আরও ৩টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতেও গরুগুলো গোয়ালঘরে বেঁধে রেখে তারা ঘুমাতে যান। সকালে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালঘরের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। পরে ভেতরে গিয়ে গরুগুলো না দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।
কৃষক মনির হোসেন বলেন, “গরুগুলোই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র সম্বল। কোরবানির ঈদের আগে এগুলো বিক্রি করে সংসারের অনেক প্রয়োজন মেটানোর পরিকল্পনা ছিল। এখন আমি পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।”
অন্যদিকে শাহ আলী জানান, কয়েক বছর ধরে কষ্ট করে গরুগুলো লালন-পালন করেছেন তিনি। এক রাতেই সব শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজনের দাবি, ঈদকে সামনে রেখে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা গভীর রাতে বিভিন্ন এলাকায় হানা দিয়ে গরু চুরি করছে। দ্রুত এসব চক্রকে আইনের আওতায় না আনলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায় জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ জমা না পড়লেও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “গরু চুরি প্রতিরোধে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামবাসীকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।”
এদিকে গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই এখন রাত জেগে গোয়ালঘর পাহারা দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার চোরের ভয়ে নিজের ঘর ছেড়ে গোয়ালঘরেই রাত কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, এর আগের দিন উপজেলার দক্ষিণ খামার মাগুড়া এলাকায় মিনহাজ শেখের বাড়ির পাশ থেকে একটি গরু উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, চোরের দল গরুটি চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় ভোর হয়ে গেলে সেটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় সাংবাদিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রচার করলে প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করে গরুটি তার কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে জানমাল ও গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের টহল আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও খামারিরা।